বিএমইটি প্রসঙ্গে

বিএমইটি সম্পর্কে তথ্য:

১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বৃটিশ ভারতে যুদ্ধ ফেরত সৈনিকদের বেসামরিক পেশায় পুনর্বাসন করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা সনদ ও সুপারিশমালার আলোকে উপমহাদেশে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সনদ ৮৮ এর সুপারিশের আলোকে বেকারদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জসমূহ কাজ করতে থাকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর মধ্যপ্রাচ্যের তৈল সমৃদ্ধ দেশসমূহে প্রচুর সংখ্যক শ্রমিকের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে আন্তর্জাতিক শ্রম দপ্তরের অধীনে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান শাখাকে আলাদা করে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো নামে সম্পূর্ণ আলাদা একটি সরকারী নির্বাহী প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়।

  • জন্মলগ্ন হতেই জনশক্তি ব্যুরো শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত একটি বৃহত্তম অধিদপ্তর হিসাবে বিদ্যমান। জনশক্তি ব্যুরো সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল নিম্নরুপ:
  • বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করা।
  • দেশী ও বিদেশী কর্মপ্রার্থীদের নাম তালিকাভূক্তি ও নিয়োগকর্তার নিকট উপস্থাপন করা।
  • প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করা।
  • রিক্রুটিং এজেন্সীর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা প্রণয়ন করা।
  • শ্রম বাজারের তথ্যাবলী সংগ্রহ ও গবেষণামূলক কার্যক্রম সম্পাদন করা।
  • চাকুরীপ্রার্থী ও স্কুল ছাত্র ছাত্রীদের পেশাগত দিক নিদের্শনা প্রদান করা।
  • আত্ম-কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা।
  • দেশ ও বিদেশের ক্রমবর্ধমান কর্মী নিয়োগের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন কারিগরি ও বৃত্তিমূলক পেশায় দক্ষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের দক্ষতা আরও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সফলভাবে বাস্তবায়ন করা।
  • দক্ষ জনশক্তির প্রকৃত চাহিদা নিরুপণ এবং এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য উন্নয়ন কর্মসূচী গ্রহণ করা।

জনশক্তি ব্যুরো সৃষ্টির পর হতে এই প্রতিষ্ঠানটি তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে আসছে। বর্তমান সরকারের মাননীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর গতিশীল ও সুযোগ্য নেতৃত্বে বিভিন্ন সময়োপযোগী কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে বিদেশে জনশক্তি রপ্তানী ও এখাত হতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। নিয়মিত কাজ ছাড়াও জনশক্তি ব্যুরো বিদেশে কর্মরত ও বিদেশগামী কর্মীদের জন্য নানাবিধ কল্যাণমূলক কাজ করে থাকে। বিদেশগামী কর্মীদের নিয়োগকারী দেশের আইন-কানুন, চাকুরীর শর্তাবলী এবং সেই দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়ে ব্রিফিং প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া প্রবাসী মৃত কর্মীদের লাশ ফেরত আনা ও তাদের আত্নীয়-স্বজনের নিকট হস্তান্তর, নিয়োগকর্তাদের নিকট হতে ক্ষতিপূরণ আদায়, মৃত কর্মীদের লাশ দাফনের জন্য অর্থ সাহায্য প্রদান, বিদেশ গমনের জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তির সহায়তা করাসহ নানা ধরনের কর্মকান্ড জনশক্তি ব্যুরো গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক আকারে কল্যাণমূলক কাজ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

Cinque Terre